মাংসপেশীর ব্যথা হয় কেনো? এমন হলে কি করবেন?

একেবারেই সুস্থ এবং স্বাভাবিক একজন মানুষ, হঠাৎ করেই পেশীতে ব্যথা অনুভব করছেন, এর বিভিন্ন কারণগুলো জেনে নেওয়া যাক:
ব্যাথার কারন :
১. হঠাৎ অতিরিক্ত কায়িক শ্রম
২. আড়ষ্ট ও অস্বাভাবিক দেহভঙ্গি বা মাইনর ইন্জুরি
৩. শরীরে খনিজ লবণের ভারসাম্যহীনতা (যেমন: ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সোডিয়াম ইত্যাদিঅধিকাংশ ক্ষেত্রে যা সহজে নিরাময়যোগ্য)
৪. শরীরে পানি ও সাধারণ লবণের শূন্যতা (ডায়রিয়া, বমি, অতিরিক্ত ঘাম, জ্বর কিংবা পুড়ে গেলেও শরীরে পানি ও লবণের শূন্যতা দেখা দেয়)৷
চিকিৎসা
পেশীর ব্যথার চিকিৎসা খুব কঠিন কিছু নয়, অন্তত যাদের ক্ষেত্রে অসুবিধেটা সাময়িক৷ দীর্ঘদিন ধরে ব্যথায় ভুগছেন এমন যে কারও ক্ষেত্রে উচিত হবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া৷ ব্যথার আসল কারণ চিহ্নিত করতে পারলে চিকিৎসা নিতান্তই সাধারণ এবং মামুলি৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যথানাশক ঔষধ আর বিশ্রাম পেলেই ব্যথা সেরে যায়৷
করণীয় কি :
মাংসপেশীর খিঁচুনির উপশমের জন্যে নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করতে পারেন৷
১. ম্যাসেজ : পায়ের খিঁচুনির জন্যে, বিছানায় আরামদায়ক আসনে বসুন৷ সামনে একটি চেয়ার রাখুন (চেয়ার এবং বিছানা একই উচ্চতায় থাকলে সুবিধে হবে), চেয়ারে পা তুলে দিয়ে এক হাতে পায়ের আঙুলগুলো চেপে ধরে (আপনার দিকে) টান দিন৷ টান টান অবস্থায়, অন্য হাতে এবার হাঁটু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত পায়ের মাংসপেশী হালকাভাবে ম্যাসেজ করুন৷ মনে রাখবেন, ম্যাসেজ করতে গিয়ে ওপর থেকে নিচের দিকে নামবেন, কখনও মাংসপেশী আড়াআড়ি ম্যাসেজ করবেন না৷ দিনে দুই থেকে তিনবার পদ্ধতিটি প্রয়োগ করবেন৷ মাংসপেশীর নির্দিষ্ট কোনও একটি জায়গায়ও যদি ব্যথা থাকে, ম্যাসেজের ফলে আশা করা যায় সেটার তীব্রতা কমে আসবে৷
২. হাঁটাহাঁটি করুন : ধরুন হঠাৎ করেই পায়ের পেশীর খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়েছেন৷ কষ্ট হলেও উঠে দাঁড়ান, পেশীটি টানটান হয়ে যাবে, এবং কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন৷
৩. হালকা ব্যায়াম : যদি একটি দেয়াল থেকে দুই ফুট দূরে দাঁড়িয়ে দেয়ালের সঙ্গে দুই হাতের তালু চেপে ধরেন৷ এবার ধীরে ধীরে হাতের ওপর চাপ রেখে দেয়ালের দিকে ঝুঁকে পড়ুন, মনে রাখবেন পায়ের তালু মাটি থেকে উঠবে না এবং পা বা হাঁটুভাঁজ করা যাবে না৷ নাক দিয়ে যদি দেয়াল স্পর্শ করতে পারেন, তাহলে বুঝতে হবে ঠিকভাবে করতে পারছেন কৌশলটি৷ কয়েকবার ধীরে ধীরে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার ফলে মাংসপেশী শিথিল হয়ে আসে, ব্যথার তীব্রতা কমে যায়৷ যদি রাতের বেলায় খিঁচুনির ব্যথায় আক্রান্ত হন, তাহলে শোয়ার আগে প্রক্রিয়াটি কয়েকবার রপ্ত করুন৷ উপকার পাবেন৷ ব্যায়ামটির সবচেয়ে বড় কার্যকর দিক হচ্ছে এর ফলে পুনরায় খিঁচুনিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়৷
৪. উষ্ণতার সন্ধান করুন : খিঁচুনিতে আক্রান্ত পেশীর উষ্ণতা বাড়াতে পারলে এর তীব্রতা কমে যায়৷ সুতরাং গরম কোনও কাপড় বা কম্বল দিয়ে পা ঢেকে ফেললে মাংসপেশী একইসঙ্গে শিথিল হয় এবং উষ্ণ থাকবে৷
৫. বালিশের সহায়তা নিন : সাধারণত দেখা যায় শোয়ার সময় পায়ের আঙুলগুলো ওপরের দিকে নির্দেশ করা অবস্থায় থাকলে খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়৷ সুতরাং শোয়ার সময় শক্ত একটি বালিশ পায়ের পাতার সঙ্গে ঠেস দিয়ে রাখতে পারেন যাতে পায়ের আঙুলগুলো সোজা না হতে পারে৷
৬. ক্যালসিয়াম : আপনি যদি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে থাকেন, অচিরেই চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করুন৷ ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতির কারণে পেশীর খিঁচুনি হতে পারে, সুতরাং চিকিৎসক হয়তো উপযুক্ত ঔষধ বা খাবারের পরামর্শ দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করতে আপনাকে সহায়তা করবেন৷
৬. ঠোঁট চেপে ধরুন : খুব বেশি ব্যথা অনুভব করছেন, এই সময়ে অদ্ভুত কিন্তু কার্যকর একটি উপায় অবলম্বন করতে পারেন৷ ব্যথার সময় হাতের বুড়ো আঙুল আর অনামিকার সাহায্যে আপনার ঠোঁট চেপে ধরুন, ধীরে ধীরে চাপ দিন৷ একশো বারের মধ্যে আশি থেকে নব্বই বার প্রায় তৎক্ষণাত খিঁচুনির ব্যথা কমে যায়৷
৭. খাবার স্যালাইন : ডায়রিয়া বা অতিরিক্ত বমি হলে মূল চিকিৎসার পাশাপাশি অবশ্যই পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন গ্রহণ করবেন৷

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জেনে নিন চিকিৎসার ক্ষেত্রে পাথরকুচি পাতার অবিশ্বাস্য ঔষধি গুণাগুণ

★★★লাউয়ের উপকারিতা★★★